• ১০ কার্তিক ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

PV Sindhu

খেলার দুনিয়া

‌৮ বছর পর এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে নজির সিন্ধুর

এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে আবার সিন্ধু গর্জন। ৮ বছর পর আবার পদক নিশ্চিত করলেন ভারতের মহিলাদের ১ নম্বর তারকা পি ভি সিন্ধু। ফিলিপিন্সের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের হে বিং জিয়াওকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি। সেমিফাইনালে ওঠার পথটা অবশ্য ততটা মসৃন ছিল না সিন্ধুর সামনে। ২৫ বছর বয়সী চীনের হে বিং জিয়াও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন সিন্ধুকে। শেষ পর্যন্ত ১ ঘন্টা ১৬ মিনিটের লড়াইয়ে ২১৯, ১৩২১, ২১১৯ ব্যবধানে জেতেন সিন্ধু। গত ১ বছরের মধ্যে এই নিয়ে টানা তিনবার হে বিং জিয়াওয়ের বিরুদ্ধে জিতলেন তিনি। গতবছর টোকিও অলিম্পিকে চীনের এই শাটলারকে হারিয়েই ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সিন্ধু। এদিনও হে বিং জিয়াওকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করলেন। ২০১৪ সালে শেষবার দক্ষিণ কোরিয়ার গিমচেওনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বোঞ্জ জিতেছিলেন সিন্ধু। ৮ বছর পর আবার পদক নিশ্চিত করলেন এই ব্যাডমিন্টন তারকা। ২০১৭ সালে ইউহানে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিং জিয়াওয়ের কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন সিন্ধু। সেই পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধও নিলেন। দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এখনও ৯৮ ব্যবধানে এগিয়ে বিং জিয়াও।এদিন কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ শুরু করেছিলেন সিন্ধু। শুরুর দিকে বিং জিয়াওকে একেবারে দাঁড়াতেই দেননি। একসময় ১১২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। মাত্র ১৩ মিনিটেই প্রথম গেম ২১৯ ব্যবধানে জিতে নেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান বিং জিয়াও। ২১১৩ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। তৃতীয় গেম জমে ওঠে। শুরুর দিকে সিন্ধুর দাপট থাকলেও পরে খেলায় ফেরেন বিং জিয়াও। এক সময় ৬১১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে সমতা ফেরান। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। বিং জিয়াওয়ের একের পর এক আনফোর্সড এররের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষপর্যন্ত ২১১৯ ব্যবধানে তৃতীয় গেম জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে যান সিন্ধু।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌সুইৎজারল্যান্ডের বাসেলে সিন্ধু গর্জন, কী এমন করলেন এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা?

রবিবার সুইৎজারল্যান্ডের বাসেলে ঘটল সিন্ধু গর্জন। থাইল্যান্ডের বুসানন ওংবামরুঙ্গফনকে উড়িয়ে সুইস ওপেনে মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন হলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। চলতি বছরে এটা দ্বিতীয় খেতাব সিন্ধুর। জার্মান ওপেন ও অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন দেশের এই এক নম্বর মহিলা শাটলার। সুইস ওপেনের ফাইনালে জিতলেন ২১১৬, ২১৮ ব্যবধানে। এবছরের শুরুতেই সৈয়দ মোদী আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন হন সিন্ধু। এবার সুইস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন। এই নিয়ে সুইস ওপেনে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছিলেন সিন্ধু। এদিন ফাইনালে প্রতিযোগিতার চতুর্থ বাছাই বুসাননকে হারাতে সময় নেন মাত্র ৪৯ মিনিট। বুসাননের বিরুদ্ধে সিন্ধুর পরিসংখ্যান যথেষ্ট ভাল। সুইস ওপেনে মুখোমুখি হওয়ার আগে ১৬ বার সাক্ষাৎকারে ১৫ বার জিতেছিলেন সিন্ধু। ২০১৯ সালে হংকং ওপেনেই একমাত্র বুসাননের কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন সিন্ধু। সুতরাং ফেবারিট হিসেবেই এদিন ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন। এদিনের ফাইনালে প্রথম গেমে সিন্ধু ৩০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপরই ঘুরে দাঁড়ান বুসানন। এসময় প্রথম গেমে ফল দাঁড়ায় ৭৭। আবার এগিয়ে যান সিন্ধু । বুসানন কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দেন সিন্ধুকে। তুল্যমূল্য লড়াই করে এক সময় ১৩১৩ করে ফেলেন। কিন্তু এরপর একের পর এক ভুল করতে থাকেন বুসানন। তাঁর সেই ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান সিন্ধু। সিন্ধু ১৬১৩ লিড নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ২১১৬ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন। প্রথম গেমে তবু একটু লড়াই দিয়েছিলেন বুসানন। দ্বিতীয় গেমে দাঁড়াতেই পারেননি। দ্বিতীয় গেমের শুরুতেই ৫০ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। এই সময় তিনি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলছিলেন। বিরতিতেই তিনি এগিয়ে যান ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে। একসময় ১৮৪ ব্যবধানে এগিয়ে খেতাবের কাছাকাছি পৌঁছে যান। শেষ অবধি দ্বিতীয় গেম ২১৮ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হন সিন্ধু। মহিলাদের সিঙ্গলসে সিন্ধু চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরুষদের সিঙ্গলসে ব্যর্থ এইচএস প্রণয়। ইন্দোনেশিয়ার জোনাথন ক্রিস্টির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার। ক্রিস্টি ২১১২, ২১১৮ ব্যবধানে প্রণয়কে হারিয়ে খেতাব জেতেন।

মার্চ ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : ‌কাঁটা সেই তাই জু, ব্যাডমিন্টনের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় সিন্ধুর

তাই জু যেন কাঁটা কিছুতেই সরাতে পারছেন না ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পি ভি সিন্ধু। টোকিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালে এই তাই জুর কাছেই হেরে রুপো জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের ১ নম্বর মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকার। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও ছিটকে যেতে হল তাই জুর কাছে হেরে। খেতাব ধরে রাখার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল সিন্ধুর। তাইওয়ানের শাটলার তাই জু ২১১৭, ২১১৩ ব্যবধানে সিন্ধুকে হারিয়ে পৌঁছে গেলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে।ম্যাচের শুরু থেকেই তাই জুর আধিপত্য ছিল। প্রথমে ৫২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। একসময় তাই জুর পক্ষে ফল ছিল ১১৬। পরে সিন্ধু ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে নিয়ে আসেন। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩ পয়েন্টের। শেষ পর্যন্ত ২১১৭ পয়েন্টে দ্বিতীয় গেম জিতে নেন তাই জু। দ্বিতীয় গেমে একসময় দারুণ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। ফল ছিল ১২১২। সেখান থেকে আস্তে আস্তে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন তাই জু। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে যান তাইওয়ানের এই শাটলার। এই নিয়ে টানা ৫ বার তাই জুর কাছে হারলেন সিন্ধু। দুজনে মোট মুখোমুখি হয়েছেন ২০ বার। এর মধ্যে তাই জু জিতেছেন ১৫ বার। পি ভি সিন্ধু জিতেছেন ৫ বার।সিন্ধু বিদায় নিলেও পদক জয় নিশ্চিত করলেন কিদাম্বি শ্রীকান্ত ও লক্ষ্য সেন। পুরুষদের সিঙ্গলসের কোয়ার্টার ফাইনালে হল্যান্ডের মার্ক ক্যালজাউকে ২১৮, ২১৭ ব্যবধানে উড়িয়ে পৌঁছে গেলেন সেমিফাইনালে। এই প্রথম ক্যালজাউয়ের বিরুদ্ধে কোর্টে নেমেছিলেন শ্রীকান্ত। অচেনা প্রতিপক্ষ হলেও দারুণ দাপট দেখান এই ভারতীয় শাটলার। প্রথম গেমে একসময় ১১৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান। ব্যবধান ধরে রেখে ২১৮ ব্যবধানে শেষ পর্যন্ত প্রথম গেম জিতে নেন। দ্বিতীয় গেমেও একইরকম দাপট ছিল শ্রীকান্তের। ১১৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ২১৭ পয়েন্টে জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে যান। অন্যদিকে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে চিনের জুন পেং ঝাউকে ২১১৫, ১৫২১, ২২২০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন লক্ষ্য সেন।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : লেহেঙ্গা–চোলিতে ধামাল নাচে নেটিজেনদের হৃদয় কাঁপালেন এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা

কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ছবি দারুণ ভাইরাল হয়েছিল। হলুদ সুইমিং স্যুটে সমুদ্র সৈকতে দেখা গিয়েছিল পিভি সিন্ধুকে। সুইমিং স্যুটে ভারতীয় এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকাকে অপূর্ব লাগছিল। এবার নতুন ভুমিকায় সকলকে মুগ্ধ করলেন পিভি সিন্ধু। লেহেঙ্গাচোলিতে ধামাল নাচে করলেন দেওয়ালির সেলিব্রেশন। তাঁর সেই ভিডিও দারুণ ভাইরাল হয়েছে। হৃদয় জয় করে নিয়েছে নেটিজেনদের।ওই ভিডিওর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিওয়ালি সেলিব্রেশনে মেতে উঠলেন পিভি সিন্ধু। দিওয়ালি সেলিব্রেশনে অন্য চেহারায় ধরা দিয়েছেন। এইরকম ভুমিকায় আগে কখনও দেখা যায়নি ভারতীয় এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকাকে। দিওয়ালির সেলিব্রেশনে পিভি সিন্ধু এদিন পরেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেহেঙ্গাচোলি৷ গহনাতে সেজে উঠেছিলেন। শুধু সাজগোজ করেই থেমে থাকেননি সিন্ধু, Love Nwantiti গানে রীতিমতো নেচে দেখান। গানটি এই মুহূর্তে দারুণ জনপ্রিয়। সেই নাচের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন পিভি সিন্ধু। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর সেই নাচের ভিডিও শেয়ার করেছেন দিওয়ালি সিরিজে৷ পিভি সিন্ধুর অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির পাশাপাশি এই নাচের ভিডিও ১২ লক্ষ ভিউ হয়ে গেছে।Love Nwantiti গানটি সারা পৃথিবী জুড়েই দারুণ জনপ্রিয়৷ পিভি সিন্ধুও সেই চ্যালেঞ্জেই যোগদান করলেন৷ তিনি ভারতের কয়েকজন সেলিব্রিটিদের মধ্যে একজন যাঁরা Love Nwantiti উন্মাদনায় যোগ দিয়েছেন। নাইজেরিয়ান গায়ক সিকেয়ের গানটি বর্তমানে ইউ টিউবের গ্লোবাল চার্টে এক নম্বর গান। এটি ইউটিউবে ১.১ কোটিরও বেশি ভিউ রয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ইনস্টাগ্রাম রিল এবং টিকটক ভিডিওগুলিতে ব্যবহৃত হয়েছে।এবছর টোকিও অলিম্পিক থেকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন পিভি সিন্ধু। আগের অলিম্পিকেও দেশকে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছিলেন। তাঁর এই কৃতিত্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবছর পিভি সিন্ধুকে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করেছে। এটি দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। এর আগে ২০১৫ সালে পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছিলেন দেশের সেরা এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা। ২০১৬ সালে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার পান। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সোমবারই রাষ্ট্রপতি ভবনে পিভি সিন্ধুর হাতে পদ্মভূষণ পুরস্কার তুলে দেন।পুরস্কার নেওয়ার পর পিভি সিন্ধু বলেন, এই মুহূর্তটা আমার কাছে খুবই গর্বের। আমি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ৷ এই ধরণের সম্মান দারুণ উৎসাহ জোগায়৷ সামনে আরও ভাল পারফরমেন্স করাতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সিন্ধু আরও বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে আরও বেশি পরিশ্রম করব। সামনে বেশ কয়েকটা প্রতিযোগিতা রয়েছে। আশা করছি সেগুলোতে ভাল পারপরমেন্স করব।

নভেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌PV Sindhu : প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধু

টোকিও অলিম্পিকে দেশকে পদক এনে দিলেন পিভি সিন্ধু। চীনের হে বিং জিয়াংকে ২১১৩, ২১১৫ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন। অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে বিশ্বের একনম্বর তারকা তাই জুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি পিভি সিন্ধুর। ব্রোঞ্জের সম্ভাবনা ছিল। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ের এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার প্রতিপক্ষ ছিল হে বিং জিয়াও। অলিম্পিকে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামার আগে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে হে বিং জিয়াও এগিয়ে ছিলেন। এর আগে এই দুই শাটলার মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৫ বার। বিং জিয়াও জিতেছিলেন ৯ বার, আর সিন্ধু জিতেছিলেন ৬ বার। অলিম্পিকে জিতে পরিসংখ্যান কিছুটা উন্নত করলেন সিন্ধু।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরপ্রথম গেমের শুরুতেই হে বিং জিয়াওয়ের বিরুদ্ধে ৪০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন পিভি সিন্ধু। সেখান থেকে সমতা ফেরান চীনের এই তারকা। একসময় ম্যাচের ফল ছিল ৮৮। এরপর ম্যাচের ওপর আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন পিভি সিন্ধু। পরপর ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ১৪৮ ব্যবধানে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ পয়েন্টে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে তাই জুর বিরুদ্ধে যে যে ভুল করেছিলেন এই ভারতীয় শাটলার, এদিন প্রথম গেমে সেই ভুল গুলি শুধরে নেন। স্ম্যাশ, নেট প্লে, ড্রপ শট নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় গেমেও সিন্ধু ধারবাহিকতা দরে রেখেছিলেন। দারুণ শুরু করে ৪১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন চীনের হে বিং জিয়াও। ১১৮ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় স্কোর ১১১১ করেন। সেখান থেকে আবার ম্যাচে এগিয়ে যেতে থাকেন সিন্ধু। শেষ পর্যন্ত ২১১৫ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন এইই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। আরও পড়ুনঃ স্ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাপ্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন পিভি সিন্ধু। আর ভারতীয় হিসেবে দ্বিতীয়। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার। তিনি ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে একধাপ ভাল করে রুপো জিতেছিলেন। অন্যদিকে পিভি সিন্দু ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympic: সেমিফাইনালেও পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে পিভি সিন্ধুর

টোকিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা চাইনিজ তাইপের তাই জু-র কাছে হেরে গেলেন ভারতের পিভি সিন্ধু। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না সিন্ধুর। রবিবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে চিনের হি বিংজিয়াওর মুখোমুখি হবেন ভারতের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শাটলার।সেমিফাইনালে চাইনিজ তাইপের তাই জু-র বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও প্রথম গেম হারেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে সিন্ধুকে দাঁড়াতে দেননি তাই জু। স্ট্রেট গেমে ম্যাচ হারেন হায়দরাবাদি শাটলার। সিন্ধুর বিরুদ্ধে চাইনিজ তাইপের ২৭ বছর বয়সী তাই জু জিতেছেন ২১-১৮, ২১-১২ পয়েন্টের ব্যবধানে। এর ফলে টোকিও অলিম্পিকে সিন্ধুর রুপো বা সোনা জয়ের স্বপ্নে ইতি ঘটেছে। যদিও ব্রোঞ্জ জয়ের সম্ভবনা রয়েছে।ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্তভাবেই করেন পিভি সিন্ধু। প্রথম গেমে চাইনিজ তাইপেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পয়েন্টের ব্যবধান বাড়িয়েও নিয়েছিলেন ভারতীয় শাটলার। একটা সময় ৯-৬ এবং ১১-৮ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন পিভি। অভিজ্ঞতায় ভর করে সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করেন তাই জু। ১৪-১৪ হয়ে যাওয়ার পর প্রথম গেমে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। কখনও ভারতীয় শাটলার এগোচ্ছিলেন তো কখনও টেক্কা দিচ্ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর শাটলার। ১৮-১৮ হওয়ার পর গেমে সিন্ধুকে আর ফিরতে দেননি তাই জু-ইং। ২১-১৮ ব্যবধানে তিনি প্রথম গেম জেতেন।দ্বিতীয় গেমে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তাই জু। কোর্টের নানা প্রান্তে ছোট ছোট চকিত শট খেলে পিভি সিন্ধুকে নাজেহাল করতে থাকেন চাইনিজ তাইপেইয়ের শাটলার। মাঝে বেশ কয়েকবার রণনীতি পরিবর্তন করেন ভারতীয় তারকা। তাই জু-ইংয়ের ছন্দ কাটতে আক্রমণাত্মক ঢঙে খেলা শুরু করেন পিভি। কিন্তু সব কিছুরই জবাব ছিল চাইনিজ তাইপেই শাটলারের কাছে। দ্বিতীয় গেমে একটা সময় ৪-৫ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সিন্ধু। এরপর ৪-৭, ৫-৭ থেকে ৭-১১ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েন ভারতের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। একটা সময় সিন্ধুর থেকে ১৬-৯ পয়েন্টে এগিয়ে যান চাইনিজ তাইপেইয়ের শাটলার। সেখান থেকে কোনও মতে আরও তিন পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হন পিভি। সবশেষে ২১-১২ পয়েন্টের ব্যবধানে সেমিফাইনাল জিতে যান বিশ্বের এক নম্বর শাটলার। সেমিফাইনালে জাজমেন্টে অনেক ভুল করেন পিভি সিন্ধু। আবার নিজের দুর্দান্ত অনুমান ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিন্ধু মারা শটের আনফোর্সড এরর থেকেও পয়েন্ট অর্জন করেন তাই জু। সেমিফাইনাল হেরে গেলেও পিভি টোকিও অলিম্পিকে পিভি সিন্ধুর লড়াইয় মুগ্ধ করেছে দেশের ক্রীড়া জগতকে।

জুলাই ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sindhu: টোকিও অলিম্পিকে সিন্ধুগর্জন, পৌঁছে গেলেন পদকের আরও কাছে

টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় নারী শক্তির দাপট। ভারোত্তোলনে পদক জিতে দেশে ফিরে এসেছেন মীরাবাই চানু। বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাইয়ের বক্সিংয়ে পদক নিশ্চিত করেছেন। এবার পদকের দিকে পিভি সিন্ধুও অনেকটাই এগিয়ে গেলেন।২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের রুপোজয়ী ভারতীয় শাটলার সিন্ধু এদিন কোয়ার্টার ফাইনালে হারালেন চতুর্থ বাছাই জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে। সিন্ধু জেতেন ২১-১৩, ২২-২০ ব্যবধানে। এদিনের আগে ১৮টি সাক্ষাতেই ইয়ামাগুচি পরাস্ত হয়েছিলেন সিন্ধু কাছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না।বিশ্বের ষষ্ঠ বাছাই সিন্ধু প্রথম গেমে আগাগোড়া দাপট বজায় রাখেন। ইয়ামাগুচিও যথেষ্ট ভালোই টক্কর দিচ্ছিলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার সঙ্গে। কিন্তু সিন্ধুর সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। ২৩ মিনিটে প্রথম গেম জিতে নেন ২১-১৩ ব্যবধানে। দ্বিতীয় গেমের প্রথম দিকেও সমানে সমানে টক্কর দিতে থাকেন ইয়ামাগুচি। কিন্তু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সিন্ধু দাপট দেখাতে থাকেন। দ্বিতীয় গেমের মাঝামাঝি অবস্থাতেও সিন্ধু এগিয়ে ছিলেন ১১-৬ ব্যবধানে। এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে সমতা ফেরান ইয়ামাগুচি। ১৫-১৫ করে ফেলেন ইয়ামাগুচি, পরে এগিয়েও যান। যদিও স্নায়ুযুদ্ধ জিতে শেষ হাসি হাসেন সিন্ধু। খেলার ফল ২১-১৩, ২২-২০। ৩১ জুলাই তাঁর সেমিফাইনাল ম্যাচ। তবে শীর্ষ বাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে না সেমিফাইনালে।

জুলাই ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধু

গ্রুপ লিগে দুটি ম্যাচেই জয়। অলিম্পিকে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনের সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন পিভি সিন্ধু। পদক জয়ের পথে এগোলেন আরও একধাপ। পিভি সিন্ধু গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ভারতীয় এই ব্যাডমিন্টন তারকার ঝড়ে উড়ে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের কেসিনিয়া পোলিকারপোভা। জে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচেও ছন্দ ধরে রাখলেন। সিন্ধু এদিন চেয়াংকে হারালেন ২১৯, ২১১৬ ব্যবধানে।আরও পড়ুনঃ শিক্ষকদের মমতার উপহার উৎসশ্রী আসলে কী? জানুনএনগান চেয়াংয়ের পক্ষে খুব বেশি প্রতিরোধ করার সুযোগ ছিল না। প্রথম গেমে এদিন চেয়াংকে দাঁড়াতেই দেননি। শুরু থেকেই ম্যাচে লিড নিতে থাকেন সিন্ধু। একসময় ৫২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর আস্তে আস্তে লিড বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২১৯ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে অবশ্য কিছুটা খেলায় ফেরেন এনগান চেয়ুং। সিন্ধুর সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করতে থাকেন। একসময় ৬২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সিন্ধু। সেখান থেকে টানা ৫ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে যান চেয়ুং। দ্বিতীয় গেমের শেষ দিকে লড়াই দারুণ জমে ওঠে। কখনও এগিয়ে যান চেয়ুং, কখনও আবার সিন্ধু। শেষ পর্যন্ত ২১১৬ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান বিশ্বে ৬ নম্বর এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াগ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইজরায়েলের কেসিনিয়া পোলিকারপোভাকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও সহজ জয়। গ্রুপ লিগে সহজ প্রতিপক্ষ পেলেও এবার আসল লড়াই কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে পদক জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করলেন পিভি সিন্ধু। রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। টোকিও থেকে সোনা নিয়ে আসার স্বপ্ন। স্বপ্নপূরণের দিকে আরও একধাপ এগোলেন।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : ‌পোলিকারপোভাকে উড়িয়ে দারুণভাবে অলিম্পিক অভিযান শুরু করলেন সিন্ধু

রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। এবার টোকিও অলিম্পিকে পাখির চোখ করছেন সোনার পদক। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপ দারুণভাবে উতরে গেলেন পিভি সিন্ধু। জে গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই উড়িয়ে দিলেন ইজরায়েলের কেসেনিয়া পোলিকারপোভাকে। অতিমারীর আবহেও গত কয়েক মাসে অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখেননি সিন্ধু, গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন। ভারতীয় এই ব্যাডমিন্টন তারকার ঝড়ে উড়ে গেলেন পোলিকারপোভা। ২১৭, ২১১০ ব্যবধানে প্রথম ম্যাচ জিতে নিলেন সিন্ধু।আরও পড়ুনঃ টোকিও অলিম্পিকে প্রথম পদক ভারতেরএদিন পোলিকারপোভাকে কোনও সুযোগই দেননি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৭ নম্বরে থাকা পিভি সিন্ধু। ম্যাচের প্রথম পয়েন্ট অবশ্য তুলে নিয়েছিলেন পোলিকারপোভা। প্রথম গেমের শুরুর দিকে সিন্ধুকে কিছুটা জড়তা ছিল সিন্ধুর। যতই হোক অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতা বলে কথা। তাও আবার প্রথম ম্যাচ। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগও পাননি। জড়তা থাকাই স্বাভাবিক। আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠে নিজের সেরা ছন্দে পৌঁছতেই খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন কেসিনিয়া পোলিকারপোভা। প্রথম সেটে একসময় ৩১ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়েছিলেন পোলিকারপোভা। সেখান থেকে ৪৪ করেন সিন্ধু। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকাকে। একসময় টানা ১৪ পয়েন্ট তুলে নেন। পোলিকারপোভাকে ৫ পয়েন্টে দাঁন করিয়ে রেখে তিনি পৌঁছে যান ১৯ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ২১৭ ব্যবধানে সেট জিতে নেন।আরও পড়ুনঃ পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সুতীর্থার, পৌঁছে গেলেন দ্বিতীয় রাউন্ডেপ্রথম সেট জিতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায় পিভি সিন্ধুর। দ্বিতীয় সেটে কোনও সুযোগই দেননি বিশ্ব র্যাঙ্কিংকে ৫৮ নম্বরে থাকা কেসিনিয়া পোলিকারপোভাকে। প্রতিপক্ষকে ৩ পয়েন্টে দাঁড় করিয়ে ১০ পয়েন্টে পৌঁছে যান সিন্ধু। টানা ৭ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার পর পয়েন্ট হারান। তবে সেই সুযোগ নিতে পারেননি ইজরায়েলী পোলিকারপোভা। শেষ পর্যন্ত ২১১০ ব্যবধানে প্রথম ম্যাচ জিতে নেন। মাত্র ২৮ মিনিটেই ম্যাচ শেষ। পোলিকারপোভার বিরুদ্ধে এদিন তেমন কোনও ভুল করেননি সিন্ধু। রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। টোকিও থেকে সোনা নিয়ে আসার স্বপ্ন। তার একটা ধাপ সবেমাত্র অতিক্রম করলেন এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। পরের ম্যাচে হংকংয়ের ছেউং এনগান ইর মুখোমুখি হবেন তিনি। সহজ গ্রুপে পড়লেও প্রতিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নিতে চান না পিভি সিন্ধু।

জুলাই ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

PV Sindhu : আক্রান্ত সিন্ধু, আঙুলের নখে শোভা পাচ্ছে অলিম্পিক রিং

রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। এবার টোকিও অলিম্পিকে পাখির চোখ করছেন সোনার পদক। টোকিও পা দেওয়ার আগেই অলিম্পিক জ্বরে আক্রান্ত ভারতীয় মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। তার প্রমাণ সিন্ধুর আঙুলের নখে শোভা পাচ্ছে অলিম্পিক রিং। প্রস্তুতির মাঝেই টুইটারে একটা ছবি শেয়ার করেছেন পিভি সিন্ধু। সেই ছবিতে ভারতীয় এই ব্যাডমিন্টন তারকার মধ্যমা ও অনামিকা নখে শোভা পাচ্ছে অলিম্পিক রিং। এই ছবি পোস্ট করে সিন্ধু লিখেছেন, অলিম্পিক ফিভার। অতিমারীর আবহেও গত কয়েক মাসে অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখেননি পিভি সিন্ধু। করোনা তাঁর প্রস্তুতিতে কোনও ব্যাঘাত ঘটায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বরং একা একা অনুশীলনে নিজের দক্ষতা অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনায় হাজির ছিলেন পিভি সিন্ধু। সেখানে ডায়েট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অলিম্পিকের আগে ডায়েটের কথা মাথায় রাখতেই হচ্ছে। তাই খুব বেশি আইসক্রিম খেতে পারছি না। অন্যান্য খাবারের দিকেও নজর দিতে হচ্ছে।টোকিও অলিম্পিকে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে রয়েছেন পিভি সিন্ধু। গ্রুপে তাঁর চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক নিচের দিকে থাকে ইজরায়েলেন সোনিয়া পোলিকারপোভা ও হংকংয়ের ছেউং এনগান ইর মুখোমুখি হবেন তিনি। সহজ গ্রুপে পড়লেও প্রতিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নিতে চান না পিভি সিন্ধু। শেষ ষোলোয় বিশ্বের ১২ নম্বর মিয়া ব্লিচফেল্টের বিরুদ্ধে খেলতে হতে পারে। রিও অলিম্পিকে সোনার পদকজয়ী ক্যারোলিনা মারিন চোটের জন্য টোকিও অলিম্পিক থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁর কাছেই রিওতে ফাইনালে হারতে হয়েছিল সিন্ধুকে। টোকিওতে মারিনকে মিস করবেন বলে জানিয়েছেন এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা।রিও অলিম্পিকে ফাইনালে পৌঁছেও শেষরক্ষা হয়নি। মারিনের কাছে হেরে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। আগের অলিম্পিকে সোনা না জেতার আক্ষেপ টোকিওতে মেটাতে চান সিন্ধু। তাঁর লক্ষ্য দেশকে সোনা এনে দেওয়া। ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথায় অনুপ্রানিত এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা।

জুলাই ১৫, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, ইউনেস্কো মামলায় তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। তখন থেকেই CGO কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। দুই কমিশনারেটের আধিকারিককে দেখা যায় সেখানে। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কুণাল আগরওয়াল।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন একা নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইন্দ্রনীল ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। পাসের দাম ছিল ১,৮০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইভাবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দার যোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি তদন্তে নামে ইডিও। লালবাজারে তলব এড়ানোর অভিযোগের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় আদালতে। এখন তদন্তকারীদের নজর সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, লেনদেন এবং তার প্রকৃত ব্যবহার খতিয়ে দেখার দিকে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal